আজ আমি আপনাদেরকে বলবো মকর সংক্রান্তির দিন যা করবেন না বিপদের শেষ থাকবে না এবং যা করণীয় হল বল বাস বসবাস এই সময় কোন কাজ করা উচিত নয় শুরুতে সংক্রান্তি মকর সংক্রান্তি শাস্ত্রমতে মকর সংক্রান্তি থেকে শুরু হয় এবং এসময় মকরের ঘরে সূর্য প্রবেশ করে তাই এই তিথিকে মকর সংক্রান্তি বলে। এই সময় নতুন ধান ওঠা ঘরে ঘরে মকর সংক্রান্তি পালিত হয়। এই জনপ্রিয় উৎসব পরিচিত নবান্ন নামে। অন্যান্য রাজ্যে উৎসবে মাতেন সকলে কুম্ভ থেকে গঙ্গাসাগর সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন ভাবে পালিত হয় । অন্যান্য উৎসবের মতো মকরসংক্রান্তির কিছু নিয়ম নীতি রয়েছে যা মেনে চলা শাস্ত্রমতে অতি আবশ্যক বলে মনে করা হয় ।
এই কাজ গুলি অতি উচিত না
১। এই দিন বাড়ির কেউ যাতে দূরে কোথাও যাত্রা না করে কারণ এই দিনে বাড়ির মানুষের দূরে যাত্রা করাটা অশুভ বলে মনে করা হয় ।চেষ্টা করবেন সবাই যেন একই সঙ্গে মিলিত হয়ে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন । এমনটি করলে আপনার পরিবারের প্রধান থাকবে বাড়ির সুখ শান্তি ও আর্থিক স্বচ্ছলতা।
২। নিজের খেয়াল রাখা অবশ্যই মহিলাদের মেনে চলা উচিত উৎসব মানে নতুন পোশাকের সংক্রান্তি এদের সকলকে বিশেষ করে মহিলা পূণ্যার্থীদের অত্যন্ত সাধারণ পোশাক পরা উচিত নয় সহজ-সরলভাবে থাকা বাঞ্ছনীয়।
৩। রাগ করা উচিত না । মকর সংক্রান্তির দিন থেকে অনেক শুভকামনা হয় তাই এই পবিত্র দিনে ক্রোধ বা রাগ বর্জন করা অত্যন্ত জরুরি ।হিংসা করা কাউকে কটু কথা বলা থেকে বিরত থাকা এবং কাউকে খারাপ বাক্য বলা উচিত নয় কারণ আপনার কথা বা ব্যবহার কাউকে আঘাত করতে পারে ফলে তার দিনটি খারাপ যেতে পারে এবং এমনটি হলে আপনার মনটা খারাপ হয়ে যাবে ফলে শুভ কাজে বাধা পড়তে পারে বা কাজ সফল নাও হতে পারে ।
৪। গাছকাটা মোটেও উচিত নয় প্রকৃতির দান বলে গণ্য করা হয় এবং এখনও বহু স্থানে গাছকে দেবতার পূজা করা হয় মকর সংক্রান্তিতে যেহেতু নবান্ন পালন করা হয় এবং প্রতিটি ঘরে ঘরে তাই এদিন গাছকাটা শাস্ত্রমতে অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয়।
৫। মকরসংক্রান্তির দিনে বাড়িতে আমিস রান্না করবেন না পারলে পুরো দিনটাই নিরামিষভোজন এই দিনটিতে নিরামিষ রান্না করতে হবে এবং রান্না দ্রব্যের মধ্যে কালো জিরা ব্যবহার করা ভাল । কাউকে খালি হাতে খাবার না খাইয়ে বাড়ি থেকে যেতে দেবেন না কারণ কথাতেই আছে এই পৌষ মাসে বাড়ি থেকে কুকুর বিড়ালও তারাই না সুতরাং বাড়িতে যদি কোনো গরিব দুঃখী বাড়ি আসে তবে তাদের খালি হাতে ফিরাবেন না আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু না কিছু দান করবেন এবং তাকে খাবার খাইয়ে ফেরাবেন। মকরসংক্রান্তির দিনে বাড়ির বাইরে মদ মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ সূর্যদেবের পুজো করার মাধ্যমে পরিবেশের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলা হয় তাই এই মকরসংক্রান্তির দিনে প্রাণী হত্যা করবেন না এমনটি করলে পাপি হতে হয় এছাড়াও ধূমপানের না করাই শ্রেয়।
এই কাজ গুলি অতি অবশ্যই করা উচিত
শাস্ত্রে উল্লিখিত আছে সংক্রান্তির পূন্য লগ্নে স্রান করলে জীবনের সমস্ত দুঃখ দূর হয়ে যায় তাই সময় ও তারিখ মেনে মকর সংক্রান্তির দিন সূর্যদেবের পুজো অবশ্যই করুন এবং অবশ্যই ব্রাহ্মমুহূর্ত ঘুম থেকে উঠে সূর্যদেবকে প্রণাম করুণ এমনটি করলে শুভ ফল পাবেন ।সকালে উঠে স্নান করে উঠলে আলপনা দিয়ে সূর্যদেবের পুজো করলে ঘরের রোগমুক্তি হয় এবং এর পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বজায় থাকে তাই এই নিয়ম মেনে অবশ্যই করুন সূর্যদেবের মকর সংক্রান্তির দিন মিষ্টিমুখ করুন এবং অন্যকেও করলে সবার মধ্যে মিষ্টি সম্পর্কের ঘটবে। কথিত আছে এই দিনে সূর্যদেব পুত্র শনি দেবতার প্রতি সমস্ত দোষ ভুলে গিয়ে প্রবেশ করেন তাই এই দিনে সকলে একত্রে মিলিত হয়ে মিষ্টিমুখ এর মাধ্যমে সুসম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার করে থাকে মকরসংক্রান্তির দিনে ঘরের ভেতর থেকে বাড়ির আশেপাশের সমস্ত জায়গায় পরিষ্কার করে রাখবেন বিশেষ করে রান্নাঘর রান্নার সামগ্রী যাতে সমস্ত রকম অবরুদ্ধতা দূর হয় বাড়ি থেকে । বিশ্বকর্মা পুজোর মকরসংক্রান্তির দিনে বিশেষ আকর্ষণ হলো ঘুড়ি উড়ানো বাচ্চা থেকে বড় সকলে মিলেই ঘুড়ি উড়াতে থাকেন শাস্ত্র মতে সকাল ঘুড়ি ওড়ানোর মাধ্যমে সূর্যের আলো শরীরে লাগলে তার শরীরের জন্য খুবই ভালো বলে মনে করা হয়। তাই এই উৎসবের দিনে সূর্যের আলোয় শরীর ও মন সুস্থ এবং সতেজ রাখতে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রচলন শুরু হয় তবে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনার আনন্দ যেন অন্যের ক্ষতি না করে।


0 মন্তব্যসমূহ